Skip to Content

Ganiter Range Hasikhusi Ganit

May 12, 2026 by
Ganiter Range Hasikhusi Ganit
Mahabub Rahman

গণিতের অন্ধকার অলিগলি থেকে আলোর জগতে: চমক হাসানের ‘গণিতের রঙে হাসিখুশি গণিত’

গণিত শুনলেই আমাদের অনেকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে কিছু হিজিবিজি সমীকরণ, বিশাল সব উপপাদ্য আর পরীক্ষার হলের সেই হিমশীতল আতঙ্ক। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি, গণিতেরও একটা রঙিন জগত থাকতে পারে? গণিত যে কেবল খাতা-কলমের হিসেব নয়, বরং জীবনকে দেখার এক অন্যরকম চশমা হতে পারে—সেই সত্যটিই অতি দরদ দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক চমক হাসান তার ‘গণিতের রঙে হাসিখুশি গণিত’ বইটিতে।

আদর্শ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই বইটি নিয়ে কথা বলতে গেলে কেবল একটি ‘বই’ হিসেবে একে আটকে রাখা কঠিন। এটি আসলে গণিতের প্রতি আমাদের মজ্জাগত ভয় দূর করার এক জাদুকরী দাওয়াই।

গণিত কি আসলেই ভয়ের, নাকি দেখার ভুল?

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ছোটবেলা থেকেই গণিতকে উপস্থাপন করা হয় একটি ‘কাঠখোট্টা’ বিষয় হিসেবে। কিন্তু লেখক চমক হাসান এখানে চিরাচরিত প্রথা ভেঙেছেন। তিনি গণিতকে সংজ্ঞায়িত করেছেন আনন্দ আর কৌতূহলের মিশেলে। বইটির নামেই তার সার্থকতা লুকিয়ে আছে—‘হাসিখুশি গণিত’। এখানে জটিল কোনো বিষয়কে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, পাঠক অজান্তেই অংকের প্রেমে পড়ে যাবেন।

চমক হাসানের লেখার ধরনটি অনেকটা আড্ডার মতো। তিনি যখন পিথাগোরাস কিংবা শূন্যের রহস্য নিয়ে কথা বলেন, মনে হয় পাশে বসে কেউ গল্প শোনাচ্ছেন। এই যে সহজবোধ্যতা, এটাই বইটির প্রাণ। একজন পাঠক যখন বইটি পড়তে শুরু করবেন, তিনি আবিষ্কার করবেন যে জ্যামিতির বৃত্ত কিংবা বীজগণিতের সূত্রগুলো আসলে নির্জীব কিছু সংখ্যা নয়, বরং এদের পেছনে লুকিয়ে আছে চমৎকার সব ইতিহাস আর যুক্তি।

বইটির মূল আকর্ষণ যেখানে

এই বইটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর গল্প বলার ঢং (Storytelling)। লেখক কেবল অংক শেখাননি, তিনি শিখিয়েছেন অংককে ভালোবাসতে। বইটির প্রতিটি অধ্যায়ে একটি সুনির্দিষ্ট ছন্দ আছে। বিশেষ করে যারা মনে করেন গণিত কেবল বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের জন্য, তাদের জন্য এই বইটি একটি বড় ধাক্কা। শিল্প-সাহিত্য কিংবা দর্শনের সাথে গণিতের যে গভীর সম্পর্ক, তা এখানে অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে উঠে এসেছে।

আদর্শ প্রকাশনীর প্রধান নির্বাহী মাহবুবুর রহমান যেমনটি সব সময় বিশ্বাস করেন—বই হবে মেধা আর মননের খোরাক। ‘গণিতের রঙে হাসিখুশি গণিত’ ঠিক সেই কাজটিই করছে। এটি কেবল তথ্যের পাহাড় নয়, বরং চিন্তার জগতকে প্রসারিত করার একটি মাধ্যম। বইটির অলংকরণ এবং মুদ্রণ সৌকর্য পাঠকের পড়ার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে। পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় রঙের ব্যবহার গণিতকে সত্যিই ‘রঙিন’ করে তুলেছে।

কাদের জন্য এই বইটি?

অনেকেই প্রশ্ন করেন, এই বইটি কি কেবল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য? উত্তর হলো—না।

  • শিক্ষার্থী: যারা পাঠ্যবইয়ের গণিত বুঝতে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের জন্য এটি হবে অনুপ্রেরণার উৎস।
  • অভিভাবক: যারা নিজের সন্তানকে গণিতের ভীতি থেকে মুক্ত করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি দিকনির্দেশনা।
  • গণিত প্রেমী: যারা গণিত ভালোবাসেন, তারা এখানে খুঁজে পাবেন প্রিয় বিষয়ের নতুন এক রূপ।
  • সাধারণ পাঠক: যাদের গণিতের সাথে সম্পর্ক অনেক আগে চুকে গেছে, তারাও একবার পড়ে দেখতে পারেন; হয়তো পুরনো শত্রুটি এবার পরম বন্ধু হয়ে ধরা দেবে।

কেন বইটি আপনার সংগ্রহে থাকা উচিত?

বর্তমান যুগে যখন আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা ডেটা সায়েন্স নিয়ে কথা বলি, তখন সবকিছুর মূলে কিন্তু সেই গণিতই কাজ করে। কিন্তু মৌলিক ভিত্তিটা যদি শক্ত না হয়, তবে উচ্চতর শিখরে ওঠা কঠিন। চমক হাসান এই বইটিতে সেই ভিত্তিমূল বা ‘ফাউন্ডেশন’ গড়ার কাজটি করেছেন অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে।

এটি এমন একটি বই যা একবার পড়ে আলমারিতে তুলে রাখার মতো নয়। বারবার পড়ার মতো, বারবার উপলব্ধি করার মতো। গণিতের সৌন্দর্য যে কেবল সঠিক উত্তরে নয়, বরং উত্তর খোঁজার প্রক্রিয়ার মধ্যে লুকিয়ে থাকে—তা এই বইটি না পড়লে অজানাই থেকে যেত।

শেষ কথা

আদর্শ প্রকাশনী সব সময় চেষ্টা করে এমন সব বই পাঠকদের হাতে তুলে দিতে, যা প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু শেখায়। ‘গণিতের রঙে হাসিখুশি গণিত’ সেই প্রচেষ্টারই একটি সার্থক প্রতিফলন। লেখক চমক হাসান প্রমাণ করেছেন যে, গণিত মানেই কপালে ভাঁজ নয়, বরং গণিত মানেই ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি।

আপনি যদি বইটিকে কেবল একটি ‘অংকের বই’ হিসেবে দেখেন, তবে ভুল করবেন। এটি আসলে মানুষের মস্তিষ্কের সক্ষমতাকে উদযাপনের একটি দলিল। তাই আর দেরি কেন? নিজের ভেতরের গণিত ভীতিকে বিদায় জানাতে এবং সংখ্যা আর রেখার মায়াবী জগতে ডুব দিতে আজই সংগ্রহ করতে পারেন এই অসামান্য সৃষ্টিটি।

মনে রাখবেন, গণিত যখন রঙিন হয়, জীবন তখন অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়।

Islamic Pothya